কি আছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে?

বাংলা নিউজ ডেস্কঃ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পর এবার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য, দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ পদক্ষেপ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতের সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের আর মাত্র ১১ দিন বাকী। প্রচারের হাঁকডাক-নানা আয়োজনে জমে উঠেছে ভোটের পরিবেশ। নির্বাচনে অংশ নেয়া সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারও তৈরি।

প্রায় ১২ কোটি ভোটারকে সামনে রেখে বুধবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রণয়ন করা ইশতেহার প্রকাশ করতে যাচ্ছে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করা আওয়ামী লীগ। বরাবরের মতো দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণা করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণকে প্রাধান্য দিয়ে এরি মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে দলের নির্বাচনী ইশতেহার। দুর্নীতি রোধে বিশেষ ঘোষণা থাকবে এতে। দ্রব্যমূল্য কমানো আর আর্থিক খাতের সুশাসনে জোর দেয়া হচ্ছে ইশতেহারে। কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা থাকছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে।

চলমান মেগা প্রকল্প ছাড়াও সামনে আরো একাধিক প্রকল্পের পরিকল্পনা আছে বর্তমান সরকারের। আর এসব খাতে হবে অসংখ্য কাজের সুযোগ। শিক্ষিত, দক্ষ কর্মী সৃষ্টিই হবেই ইশতেহারের প্রধান লক্ষ্য।

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশের বদলে যাওয়া দৃশ্যপট রাখা হয়েছে এবারের ইশতেহারে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাতসহ আগামী নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:
দ্রব্যমূল্য কমানো ও সকলের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা
কর্ম উপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা
আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা
লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
শিল্পের প্রসারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ
নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করন
সাম্প্রদায়িকতা ও সকল ধরনের সন্ত্রাস রোধ করা
সর্বস্তরের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার
এর বাইরেও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের চলমান কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় লক্ষ্য স্থির করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে-

২০২৮ সালের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হবে ৭১ বিলিয়ন ডলার
২০২৫-২৬ সালের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি নেমে আসবে ৬ শতাংশে
২০২৮ সাল নাগাদ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ শতাংশে, রফতানি প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশে এবং প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হবে উন্নীত হবে ১৪ শতাংশে
নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে হতদরিদ্রের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে।
২০৪১ সাল নাগাদ দরিদ্রতা নেমে আসবে ৩ শতাংশে।
এছাড়া শিক্ষিত, দক্ষ, চৌকস ও দুর্নীতিমুক্ত মানুষদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তোলায়ও মনোযোগ দিবে দলটি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলটির প্রেসিডিয়াম ড. আবদুর রাজ্জাক একাত্তরকে বলেন, ইশতেহারে প্রথমে পটভূমি হিসেবে থাকবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা। আর দ্বিতীয়াংশে আগামী পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি থাকবে ভবিষ্যতের কিছু রূপরেখা।

‘প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি, বিদেশি শক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং দেশের মধ্যে যারা বিদেশিদের পা চাটা; এদের বিষয়ে কী কর্মসূচি নিবো, কী কৌশল অবলম্বন করবো, কীভাবে মোকাবেলা করবো- এগুলো থাকছে।’

তিনি বলেন, ইশতেহারে আমাদের কিছু অগ্রাধিকার থাকবে- যেমন কৃষি, তরুণ প্রজন্ম, মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি।

‘বর্তমান দেশি-বিদেশি পরিস্থিতিসহ সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। এছাড়াও প্রথমাংশে থাকবে গত নির্বাচনের অঙ্গীকারের বাস্তবায়নের চিত্র।’

জাতীয় পার্টির ইশতেহার ঘোষণাজাতীয় পার্টির ইশতেহার ঘোষণা
ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব এবং আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, আমাদের অর্থনীতি এবং আর্থিকখাতে সরকার ২০০৯ সাল থেকে এ যাবত অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। অর্থনীতিকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। দেশের অর্থনীতির প্রতিটি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

‘বাংলাদেশের আজকের যে অর্থনৈতিক উল্লম্ফন হয়েছে, সেটি সরকারের বহুমাত্রিক পদক্ষেপের অবদানে। সার্বিকভাবে অর্থনীতির গতিশীলতা রক্ষা ও শৃঙ্খলায় গুরুত্ব থাকবে এই ইশতেহারে।’

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আরেক সদস্য ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায়, তার জন্য বিভিন্ন নীতির কথা আমাদের ইশতেহারে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে।

‘এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতসহ অন্যান্য ইস্যুতে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা আর বিষয়টিও থাকবে।’

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্য অর্থনীতিবিদ সাব্বির আহমেদ বলেন, ইশতেহারে মানুষ ও সমাজের প্রয়োজন তুলে এনেছি। বিশেষ করে কর্মসংস্থানকে কেন্দ্রে রেখে সবকিছুকে তার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি।

‘আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার জন্যও আমাদের মতামত আছে। শিল্পায়নের প্রসারেও আমাদের বক্তব্য থাকছে। চিকিৎসাসহ সব ধরনের সেবাখাতে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির অধিক ব্যবহার বা সেবায় আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। উদ্ভাবনী ও আইডিয়াকেও গুরুত্ব দিবো।’

যা থাকছে ১৪ দলের শরিকদের ইশতেহারেযা থাকছে ১৪ দলের শরিকদের ইশতেহারে
এবার ইশতেহার প্রণয়নে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবি ও প্রত্যাশার কথা জেনেছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা সম্বলিত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের স্লোগান ছিল ‘দিন বদলের সনদ’। এরপর ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ছিল ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’।

২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটির ইশতেহারে স্লোগান ছিলো, ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডেন্ট সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে আহ্বায়ক করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছে ২৫ সদস্যের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি। কমিটির তৈরি খসড়া থেকে প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তৈরি হয়েছে- চূড়ান্ত ইশতেহার।

Leave a Reply