রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার লাকসামে নওয়াব ফয়েজুন্নেছা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ মুসলিম সরদার মিশুর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বরের ভয় দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর কলেজ প্রশাসন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ মুসলিম সরদার মিশুকে বিভাগের সকল একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ মুসলিম সরদার মিশুকে বিভাগের সকল একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত কলেজ প্রশাসন গ্রহণ করেছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ওই শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে নওয়াব ফয়েজুন্নেছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা, তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়া ওই শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীর কথোপকথনের কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশটও ভাইরাল হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে অভিভাবক ও আদর্শের প্রতীক। একজন শিক্ষক কীভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন ন্যাক্কারজনক কাজে জড়িত হতে পারেন। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি জানান।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মুসলিম সরদার মিশুর বিরুদ্ধে এর আগেও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের লাকসাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মহিলা ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছাড়াই প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গ্রহণ দেখানো হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট জাল ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মুসলিম সরদার মিশুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
