
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের আট বিভাগে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠকে বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইতিবাচকভাবে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্কুল-কলেজের বিস্তৃত ব্যবস্থা থাকলেও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা বর্তমানে মাত্র তিনটি। ফলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিভাগীয় পর্যায়ে আরও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয় ১৭৮০ সালে কলকাতায়। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে এটি ঢাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে বকশীবাজারের বর্তমান ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্যেও ১৭৮০ সালের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৬১ সালে বকশীবাজার ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৩ সালে। আর সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।
সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা মাত্র তিনটিতে সীমাবদ্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে সরকারি মাদ্রাসার তুলনায় বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক বেশি। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে হাজার হাজার বেসরকারি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হলে বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম খরচে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো, শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ ও একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বর্তমানে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার ধারার শিক্ষার্থীরাও দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। সরকারি মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় কমার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মত দিয়েছেন।
তবে আট বিভাগে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের বিষয়টি এখনো আলোচনা ও প্রাথমিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা জাতীয়করণের আওতায় আসবে, কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী—এসব বিষয় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মওদুদ আব্দুল্লাহ (শুভ্র) | মোবাইলঃ +8801713175667, +8801713261822 | ইমেইলঃ mawdudabdullah@gmail.com | আলোছায়া (২য় ভবনের, ৪র্থ তলা), হোল্ডিং - ৭৩, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, ইসলামপুর সড়ক (পশ্চিমের গলি), ওয়ার্ড নং - ০৪ (কু সি ক), থানাঃ কোতোয়ালী, জেলাঃ কুমিল্লা - ৩৫০০, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 Doinik Bangla News. All rights reserved.