Site icon Doinik Bangla News

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইথান গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মূলহোতা ‘অপু’ গ্রেপ্তার।

ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার কাটাবিলে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার বহুল আলোচিত ঘটনার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘ কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকার পর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড তাজা গুলি।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন রাত থেকে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরদিন ২৫ জুন দুপুরে সেই বিরোধ রূপ নেয় প্রকাশ্য সশস্ত্র সংঘর্ষে। দুই পক্ষের মধ্যে চলা গুলিবিনিময়ের সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। নিরীহ এক শিক্ষার্থীর ওপর গুলি লাগার ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় এর আগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আবু হানিফ ওরফে অপু স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে কিছুটা সময় লাগে।

ডিবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে অপুর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অপু ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার জগন্নাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কাটাবিলের সংঘর্ষে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, আবু হানিফ ওরফে অপুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্রের উৎস উদ্ঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, কুমিল্লায় সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।

Exit mobile version