
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় অপহৃত এক নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে নবজাতককে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত চুক্তিপত্রও। পুলিশের দাবি, মাত্র চার ঘণ্টার অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম (৪২) ও রিপন (৩৮)। তাঁদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার (২১) ও প্রধান অভিযুক্ত আবির হোসেন (১৯) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আবির বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খাদিজার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এর ফলে খাদিজা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পরবর্তী সময়ে খাদিজার পরিবার বিষয়টি আবিরের পরিবারকে জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, আবিরের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, চাচা নজরুল ইসলাম মনির এবং স্থানীয় মাতব্বর হাজী মোস্তফা মোল্লা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ‘প্রাইম’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খাদিজা একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন। এরপর নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় স্বপ্না বেগম, কাজী বাছির, মো. নাজিম উদ্দীন ও রিপনসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে নবজাতকটিকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর তাঁর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে জোবেদা আক্তার সানজিদা, নজরুল ইসলাম মনির, স্বপ্না বেগম ও রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি নবজাতককে সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত কথিত চুক্তিপত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চৌদ্দগ্রামের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতক উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মওদুদ আব্দুল্লাহ (শুভ্র) | মোবাইলঃ +8801713175667, +8801713261822 | ইমেইলঃ mawdudabdullah@gmail.com | আলোছায়া (২য় ভবনের, ৪র্থ তলা), হোল্ডিং - ৭৩, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, ইসলামপুর সড়ক (পশ্চিমের গলি), ওয়ার্ড নং - ০৪ (কু সি ক), থানাঃ কোতোয়ালী, জেলাঃ কুমিল্লা - ৩৫০০, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 Doinik Bangla News. All rights reserved.