
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া কুমিল্লার লাকসামের জুলাই যোদ্ধা তানভীরুল ইসলাম (২৬) আর নেই। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ অক্টোবর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ত্রী ও দুই অবুঝ সন্তানকে রেখে তাঁর এই চলে যাওয়া শোকের পাশাপাশি পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তানভীরুল ইসলাম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু ইউসুফের ছেলে। গত ২২ অক্টোবর নিজ গ্রামের স্থানীয় মসজিদের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের জিওসি মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন তানভীরুল ইসলাম। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু গত ২১ অক্টোবর হঠাৎ তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জীবনসংগ্রামে ফিরে আসা তানভীরুলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাঁর রেখে যাওয়া দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ।
তানভীরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা।
উত্তরদা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামে তানভীরুলের বাড়িতে গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি তানভীরুলের স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ইউএনওর এ উদ্যোগে শোকাহত পরিবারটি কিছুটা হলেও মানসিক সান্ত্বনা পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া তানভীরুল ইসলাম ছিলেন সেই আন্দোলনের একজন আহত যোদ্ধা। আন্দোলনের সময়ের ক্ষত পেরিয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ২৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু পরিবারটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে রেখে তাঁর চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়, বরং সন্তান দুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং শিশু দুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তানভীরুল ইসলামের অকালমৃত্যুতে খিলপাড়া গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের চোখের জল আর দুই শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভাবনা ভারী করে তুলেছে পুরো পরিবারের পরিবেশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনগুলোতে আহত হয়েও যিনি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর অকালবিদায় আজ পরিবারটির জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁরা তানভীরুলের দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মওদুদ আব্দুল্লাহ (শুভ্র) | মোবাইলঃ +8801713175667, +8801713261822 | ইমেইলঃ mawdudabdullah@gmail.com | আলোছায়া (২য় ভবনের, ৪র্থ তলা), হোল্ডিং - ৭৩, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, ইসলামপুর সড়ক (পশ্চিমের গলি), ওয়ার্ড নং - ০৪ (কু সি ক), থানাঃ কোতোয়ালী, জেলাঃ কুমিল্লা - ৩৫০০, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 Doinik Bangla News. All rights reserved.