
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘কমভিউ কনফেকশনারি’ নামে একটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। রোববার রাত ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানে থাকা প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল ও ব্যবসার মূলধন পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দোকানের স্বত্বাধিকারী মমিনুল ইসলাম।
জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান মমিনুল ইসলাম। পরে রাতে ওষুধ কিনতে বাজারে আসা এক ব্যক্তি দোকানটির ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। তিনি দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন নেভাতে পাশের একটি পুকুর থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন।
দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় পাশের দোকানগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। বিশেষ করে, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটির পাশেই থাকা অপু মার্কেটের অন্যান্য দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় দোকানটি কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়।
আগুনে দোকানের সব মালামাল ও ব্যবসার পুঁজি পুড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন দিয়ে দোকানে বিপুল পরিমাণ পণ্য তুলেছিলেন। কিন্তু এক রাতের আগুনে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করা এখন তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান লাকসাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মজির আহমেদ ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মুশু । তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটি ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলামের খোঁজখবর নেন।
এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তার পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মজির আহমেদ বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় সব হয়েছে। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করলে সে (মমিনুল) আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
লকসাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মশু বলেন, আগামী ৪ তারিখে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম লাকসামে এলে তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী যাতে আবার ব্যবসা শুরু করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, আগুনে দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় মমিনুল ইসলাম বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত তাকে সহযোগিতা করা না হলে তার পক্ষে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তাই ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মওদুদ আব্দুল্লাহ (শুভ্র) | মোবাইলঃ +8801713175667, +8801713261822 | ইমেইলঃ mawdudabdullah@gmail.com | আলোছায়া (২য় ভবনের, ৪র্থ তলা), হোল্ডিং - ৭৩, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, ইসলামপুর সড়ক (পশ্চিমের গলি), ওয়ার্ড নং - ০৪ (কু সি ক), থানাঃ কোতোয়ালী, জেলাঃ কুমিল্লা - ৩৫০০, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 Doinik Bangla News. All rights reserved.