
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে ১০ শতক জমির দখল বুঝে পেয়েছেন রেজিয়া বেগম। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তর কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা নাজির ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফপুর গ্রামের রেজিয়া বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের সোলায়মান মিয়ার ছেলে ইদ্রিস মিয়ার ১০ শতক ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৪ সালে রেজিয়া বেগম নাঙ্গলকোট সিভিল জজ আদালতে প্রিয়েমশান (Pre-emption) মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২২/২০১৪।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রেজিয়া বেগমের পক্ষে ডিক্রি দেন। আদালতের ওই ডিক্রি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভূমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়।
আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাঙ্গলকোটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চাকমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে তাঁর উপস্থিতিতে এবং জেলা নাজির মমিনুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট ভূমিতে দখল হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী ১০ শতক ভূমি রেজিয়া বেগমের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দখল হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নাঙ্গলকোট থানার ওসি (তদন্ত) শাহজালালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশ থেকে আসা আরেকটি দল সেখানে দায়িত্ব পালন করে।
পুলিশ প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ভূমিতে দখল হস্তান্তরের সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাঙ্গলকোট থানা ও পুলিশ লাইন্স থেকে কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল প্রস্তুত রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ে তাঁদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করে প্রয়োজনীয় আইনগত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ভূমিতে দখল হস্তান্তরকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় আইনগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য নাঙ্গলকোটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চাকমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ ১৩ বছর মামলা পরিচালনার পর আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী প্রশাসনের মাধ্যমে জমির দখল বুঝে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রেজিয়া বেগম।
তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ মহান। তিনি আমাকে উপযুক্ত সম্মান দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে আমার জমির দখল বুঝে পেয়েছি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চাকমা বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী জমিটি রেজিয়া বেগমকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের রায় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মওদুদ আব্দুল্লাহ (শুভ্র) | মোবাইলঃ +8801713175667, +8801713261822 | ইমেইলঃ mawdudabdullah@gmail.com | আলোছায়া (২য় ভবনের, ৪র্থ তলা), হোল্ডিং - ৭৩, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, ইসলামপুর সড়ক (পশ্চিমের গলি), ওয়ার্ড নং - ০৪ (কু সি ক), থানাঃ কোতোয়ালী, জেলাঃ কুমিল্লা - ৩৫০০, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 Doinik Bangla News. All rights reserved.