কুমিল্লায় জাল দলিল করে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লা সদর উপজেলার পাচথুবী ইউনিয়ন এর ৯নং ওয়ার্ডের চান্দপুর এর মৃত রুস্তম মেম্বারের মেয়ে বেবী বেগমকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল নগরীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বেবী বেগম অভিযোগ করে বলেন,চান্দপুর মৌজার জেএল ১৬৩ এর সাবেক দাগ আরএস১৫৫,১৫৬, বিএস ৬৭৮,৬৯৩ দাগে তার দাদা হোছন আলীর মোট ৪৯ শতাংশ ভূমি রয়েছে। যাহা এখনো বন্টন নামা করা হয় নাই। উক্ত সম্পত্তি থেকে তার ফুফু নুরুন্নেছার মৃত্যুর পর তাহার ওয়ারিশদের নিকট থেকে বেবী বেগম এর ভাই ইউনুছ ও এয়াকুব সাড়ে ৩ শতক ভূমি ক্রয় করেন।যার খতিয়ান নং ৮৮২ ও সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল নং ৩৪৯৪, চৌহদ্দির উত্তরে হোসেন আলির ওয়ারিশগণের চলাচলের রাস্তা, দক্ষিণে ডা. সিরাজ উদ্দৌলা, পূর্বে এয়াকুব আলী, পশ্চিমে জেলা পরিষদের রাস্তা । মুসলিম আইন অনুযায়ী বোন ভাইয়ের অর্ধেক সম্পত্তি প্রাপ্ত হন সে হিসেবে নুরুন্নেছা সারে ৩ শতক ভূমির মালিক হলে বেবি বেগম এর পিতা ৭ শতক সম্পত্তি পাবার কথা কিন্তু বেবী বেগম এর ভাই এর যোগসাজসে বুজরাত ৬০১ খতিয়ানে ৫.৩৮ শতক এর পরিবর্তে ২৫৮ খতিয়ানে ৪.৮০ শতক বিএস চুড়ান্ত হয়।

এই ইউনুস ও এয়াকুবের পরিবর্তে আম মোক্তা শাহিনা এয়াকুব ফুফু নুরুন্নেসার সাড়ে তিন শতক ভূমি হইতে তিন শতক ভূমি আয়েশা আক্তারের নিকট ৮৮২ খতিয়ান ব্যাবহার না করিয়া আমার বাবা মৃত রুস্তম মেম্বারের বুজরাত ৬০১ ভিপি ২৫৮নং খতিয়ানের বিক্রি ও ব্যাবহার করিয়াছে। এই ধারাবাহিকতায় আয়শা আক্তার মোঃ শহিদুল ইসলাম গং এর নিকট উল্লেখিত খতিয়ান দিয়ে বিক্রি করিয়াছে।
এদিকে তার ভাবী শাহিনা এয়াকুব ২৫৮ খতিয়ান হতে ১.৬০ শতক খারিজ করে এবং ইউনুস একই খতিয়ান হতে১. ৫০ শতক ভূমি তার বোন আনোয়ারা বেগমকে দলিল প্রদান করে।যেখানে আনোয়ারা বেগম উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছেন। এছাড়াও দলিল নং ৩৪৯৪ এর ৮৮২ নং খতিয়ান হইতে আবারো অবৈধ ভাবে ইউনুস ও শাহীন এয়াকুব সাড়ে তিন শতক খারিজ করিয়েছে।
ইউনুস মিয়া ২০২১ সালে ১৫ এপ্রিল বেবি বেগম ও আনোয়ারা বেগমের স্বাক্ষর জাল করে নিজ নামে ৩.২০ শতাংশ দলিল করে নেয়,যার দলিল নং ২৭১৩।যেখানে তাদের নাম ঠিকানা সঠিক নয়। ২৫৮ নং খতিয়ান ও ৮৮২ নং খতিয়ান হইতে কিভাবে অতিরিক্ত ভূমি জমা খারিজ খতিয়ান করিতেছে তা আমারা বোধগম্য নয়।
বেবি বেগম আরো বলেন, আমি ৪৯ শতক ভূমিতে দেওয়ানী আদালতে বন্টকের মামলা করিয়াছি। মামলা নং ২২৫। এই বন্টকের মামলায় ইউনুস, মায়া বেগম ও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কারন দর্শানোর নোটিশ রয়েছে। এমতাবস্থায় ইউনুস গং জোরপূর্বক ভাবে উক্ত ভূমির বন্টকের তফসিল ও চৌহদ্দী ভূমি জোরপূর্বক দখল করিয়া ঘর উঠিয়েছে। নামজারি করার সময় ৮৮২ খতিয়ানের পরিবর্তে ৬০১ ভিপি ২৫৮ খতিয়ান দিয়ে নামজারি আবেদন করে ২৫-২৫০৮ শহিদুল ইসলাম গং এর নামে সৃজিত হয়।একইভাবে প্রতারনা করে ২৫৮ ও ৮৮২ খতিয়ান হতে ইউনুস ও শাহিনা এয়াকুব ২৪০০ ও ২৪৩৫ পৃথক খারিজ করে।
বেবী বেগম অভিযোগ করে বলেন,আমি আমার দাদার দেয়া ও পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে আদালত ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। তিনি ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানান। তাই তিনি তার পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Reply