

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লায় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ভুয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আজ কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে সেনা সদস্যের স্ত্রী সাংবাদিকদের জানায়,আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি একটি মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিষয়ে সত্য তুলে ধরার জন্য।
গত ০৯/১১/২০২৫ তারিখে, আমার দেবর পুলিশ সদস্য আমিনুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া আমার স্বামী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে মারামারির মামলা দায়ের করেন। মামলা নং: সিআর ১৮৬৯/২৫। এই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ।
মামলাটি দায়েরের পর আমরা একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রতিবারই বাদী পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয় এবং বলা হয়—এই টাকা না দিলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে না। যেহেতু আমার দেবর পুলিশ সদস্য, এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব দেখিয়ে আসছে।
পরবর্তীতে, কোতোয়ালি থানার অধীনে ছত্রখিল ফাঁড়ির আইসি মনিরুল সাহেব একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন, যা আমাদের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমাকে ও আমার স্বামীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আমার স্বামী একজন সেনাবাহিনীর সদস্য। তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং আমাদের পরিবারকে অপদস্থ করার লক্ষ্যেই এই মিথ্যা মামলা ও প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমার পুলিশ সদস্য দেবরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাদী যে অভিযোগ করেছেন, অর্থাৎ তার সন্তান নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ, বাদীর একটি সুস্থ সন্তান মাত্র এক মাস আগে জন্মগ্রহণ করেছে, যা প্রমাণ করে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এছাড়াও, মামলার সাক্ষীগণদের বিষয়ে বলতে চাই—
উল্লেখিত সাক্ষীদের কেউই প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না।
আমাদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সঠিকভাবে জবানবন্দি না নিয়ে, বিভিন্ন ভাবে সাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
আমি এই মিথ্যা মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি, যারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের হয়রানি করছে এবং মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মামলার ছয় নাম্বার এবং ৭ নাম্বার সাক্ষী আয়নাল হকের ছেলে রিপন মিয়া ও এসাক মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেন রাফি জানায়, আমরা মামলার বিষয়ে অবগত নই। পুলিশ আমাদেরকে স্বাক্ষর করতে বলেছে আমরা স্বাক্ষর করেছি। এই বিষয়ে কোন দায়ভার আমরা গ্রহণ করিব না।
