কুমিল্লা-৯ আসনে ধানের শীর্ষের গণজোয়ার, ঐক্যে তৃণমূলে ফিরছে আস্থা।

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) আসনে ধানের শীর্ষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালামের পক্ষে জনসমর্থনের ঢেউ বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভক্তি ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐক্যের পথে ফিরেছে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের রাজনীতি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীর্ষের প্রার্থী আবুল কালামের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বিভক্তির অবসান হওয়ায় এখন পুরো এলাকা ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীর্ষের পক্ষে মাঠে নেমেছে। গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজারে, পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় লাকসাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লাকসাম পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ধানের শীর্ষ প্রতীকের পক্ষে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। লাকসাম-মনোহরগঞ্জের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো অপশক্তিই ধানের শীর্ষের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। এবার জনগণের শক্তিতেই পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৯ আসনের ধানের শীর্ষের প্রার্থী আবুল কালাম। তিনি বলেন,
“আমি এই এলাকার সন্তান। লাকসাম-মনোহরগঞ্জের মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমি নিজের চোখে দেখেছি। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। কারও সাথে বৈষম্য নয়—সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।”

তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীর্ষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি বিজিএমইএ কাজী মনিরুজ্জামান এবং সাবেক সভাপতি বিজিএমইএ ফারুক হাসান। তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত নেতা কর্নেল আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা, চৈতী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চৈতী কালাম, প্রার্থী আবুল কালামের পুত্র আশিকুর রহমান ফয়সাল, পুত্রবধূ ফারিণ চৌধুরীসহ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলা ও লাকসাম পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

জনসভায় অংশ নেওয়া সাধারণ ভোটাররা জানান, দীর্ঘদিন পর এলাকার রাজনীতিতে ঐক্যের বার্তা এসেছে। তাদের প্রত্যাশা, এবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলাকার রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

অনেকে বলেন, মাঠের এই গণজোয়ারই প্রমাণ করে দিয়েছে—কুমিল্লা-৯ আসনে ধানের শীর্ষের পক্ষে জনমত শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে কুমিল্লা-৯ আসনে ধানের শীর্ষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তৃণমূলের ঐক্য, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ—সবকিছু মিলিয়ে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে নির্বাচনী মাঠ এখন ধানের শীর্ষের দখলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply