কুমিল্লা-৯ ধানের শীর্ষের প্রার্থী আবুল কালামের সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের উন্মুক্ত আলোচনা।

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) আসনের ধানের শীর্ষের প্রার্থী আবুল কালামের সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী উন্মুক্ত আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি মতামত তুলে ধরেন।

আজ বেলা ১১টার লাকসাম পৌরসভা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতেই নারী উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা, ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা, প্রশিক্ষণের অভাব ও বাজার সুবিধা না পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এ সময় আবুল কালাম নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ সমাজ শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। চাকরিজীবীরা সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হয়রানি কমানো, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবি জানান। ব্যবসায়ীরা বাজার ব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজি বন্ধ, নিরাপদ ব্যবসা পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

ফ্রিল্যান্সাররা দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার দাবি জানান। মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধারা তাদের সম্মান, ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা এবং যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে কথা বলেন। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ—ইমাম, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মগুরু—ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, সামাজিক শান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।

উন্মুক্ত আলোচনা সভায় আবুল কালাম বলেন, “আমি কথা নয়, কাজের মাধ্যমে আপনাদের আস্থা অর্জন করতে চাই। আপনারাই আমার শক্তি। আপনাদের সমস্যাই আমার অগ্রাধিকার। নির্বাচিত হলে লাকসাম–মনোহরগঞ্জ এলাকার উন্নয়নে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”
তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়ন, সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি কমানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গুম হওয়া নেতা সাইফুল ইসলাম হিরুর পুত্র রাফসান এবং হুমায়ন পুত্র শাহরিয়ার। তারা নিখোঁজ ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবির কথা তুলে ধরেন।

স্থানীয়রা জানান, এমন উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা সরাসরি শোনা গেলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ে এবং এলাকার বাস্তব সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হয়।

Leave a Reply