গণভোটে প্রচার চালালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারাদণ্ডের বিধান।

 

স্টাফ রিপোর্টার :
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরপেক্ষ থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণা চালালে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসি জানিয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটে নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানাতে পারবেন না। তবে গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন।

আইনে কী বলা আছে

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৮৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে—
প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি নিজের সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করে নির্বাচন বা গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ অনুযায়ী গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের প্রচার বা প্রভাব বিস্তার করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সংশ্লিষ্টদের কাছে ইসির চিঠি

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সব রিটার্নিং কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়—
প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না। কেননা এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

সরকারি প্রচারণা নিয়ে বিতর্ক

গণভোটকে সামনে রেখে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের উপদেষ্টারা এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে—প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কেউই গণভোটে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না। এতে গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ইসির কঠোর বার্তা

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—
গণভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইন মেনে চলতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply