দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর ডেটা দেশে রাখার বাধ্যবাধকতা।

‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ কার্যকর

স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত উপাত্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাউডে সংরক্ষিত তথ্যের একটি সমসাময়িক বা রিয়াল-টাইম কপি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংরক্ষণ করা এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম। সংশোধিত আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’, যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।

দেশে সিংক্রোনাইজড কপি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা

সংশোধিত অধ্যাদেশের ২৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে সংজ্ঞায়িত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো এবং সীমাবদ্ধ ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রে ক্লাউডে সংরক্ষিত ডেটার একটি সিংক্রোনাইজড কপি অবশ্যই বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে রাখতে হবে। এ বিধান কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক তথ্যের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শাস্তির বিধানে বড় পরিবর্তন

মূল অধ্যাদেশের ৪৮ ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য ‘কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড’—উভয় শাস্তির বিধান থাকলেও, সংশোধনীতে কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে কেবল ‘অর্থদণ্ড’ বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে করে আইনের প্রয়োগ আরও বাস্তবমুখী হবে এবং প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইনি জটিলতা কিছুটা কমবে।

রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জরুরি ভিত্তিতে এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার কাঠামো শক্তিশালী করতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে।

তথ্যের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশোধনীর ফলে একদিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হবে, অন্যদিকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে কেবল আর্থিক জরিমানার বিধান থাকায় আইনের প্রয়োগ আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর হবে।

Leave a Reply