

লাকসাম(কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশে গ্যাস সংকট নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় সাধারণ নাগরিকরা দিনের পর দিন রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না। বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না যা পাওয়া যায় তার দাম অনেক বেশি। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক খাত—সবখানেই এর প্রভাব পড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—এই সংকট কি শুধুই সরবরাহ ঘাটতির ফল, নাকি এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী গ্যাস সিন্ডিকেট?
বিগত সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের সময় থেকেই গ্যাস খাতে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠে আসছে।
- এলএনজি আমদানি
- গ্যাস বিতরণ
- সিলিন্ডার ও বাণিজ্যিক সংযোগ
এই খাতগুলোতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বাড়ানো ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করাই ছিল এই সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বর্তমান সরকারের আমলেও প্রশ্ন
সরকার পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—
- তাহলে কি আগের সিন্ডিকেটই রয়ে গেছে?
- নাকি নতুনভাবে গড়ে উঠেছে আরেকটি শক্তিশালী চক্র?
সরকারি পর্যায়ে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই সমস্যা। তবে নাগরিক সমাজ ও ভোক্তাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সংকটের আড়ালে এখনো সক্রিয় রয়েছে স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট।
কেন বারবার সিন্ডিকেট তৈরি হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বারবার সিন্ডিকেট তৈরির পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে—
- দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার অভাব
- রাজনৈতিক প্রভাব ও ছত্রচ্ছায়া
- একচেটিয়া আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা
- স্বচ্ছতার অভাব ও তথ্য গোপন
এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে কিছু গোষ্ঠী বারবার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।
সিন্ডিকেটের শাস্তি কী হওয়া উচিত
আইন অনুযায়ী—
- কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি
- মূল্য কারসাজি
- জনগণের ভোগান্তি বাড়ানো
এসব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—
- দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের সক্রিয় তদন্ত
- জ্বালানি খাতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
- দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
এই পদক্ষেপগুলো ছাড়া সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়।
কবে শেষ হবে এই সিন্ডিকেট?
এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। তবে বিশ্লেষকদের মতে,
রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নজরদারি এবং জনগণের চাপ থাকলে তবেই এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব।
নয়তো সরকার পরিবর্তন হলেও সিন্ডিকেট থেকে যাবে, আর ভোগান্তি বইবে সাধারণ মানুষই।
গ্যাস সংকট শুধু একটি প্রযুক্তিগত বা বৈশ্বিক সমস্যা নয়—এটি একটি নীতিগত ও কাঠামোগত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। যতদিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বাস্তব ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হবে, ততদিন দেশের মানুষ গ্যাস সংকটের আগুনেই পুড়তে থাকবে।
