

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র; প্রতিকারে পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি
স্টাফ নিউজ:
মানবাধিকারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও পেশাজীবী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাইবার অপরাধ, তথ্য বিভ্রান্তি, হ্যাকিং ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জি আর ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি তার ব্যবহৃত অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি ও মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক করে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি ও মোবাইল নম্বর একাধিকবার হ্যাক করা হয়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার পরিচয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, বিকৃত ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত আইডি থেকে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলা, গুম ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত নারী-পুরুষসহ একটি কুচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অপরাধী চক্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া মামলায় তাকে আসামি দেখানোর চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ তারিখে অনলাইনে “মওদুদ” নামের একটি ভুয়া ওয়ারেন্ট কাগজ দেখিয়ে চট্টগ্রাম বিজ্ঞ আদালতের নামে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশি সফটওয়্যার ও আদালতের বালাম তদন্তে উক্ত ওয়ারেন্টটি জালিয়াতিমূলক বলে প্রমাণিত হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাইবার অপরাধ, অশ্লীল তথ্য জালিয়াতি ও ভুয়া ওয়ারেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিকার ও আইনগত সুরক্ষা চেয়ে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর: ১৮৮৫, তারিখ: ২৬.০১.২০২৬ ইং। জিডির তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও অশ্লীল ছবি, হুমকিদাতার মোবাইল নম্বর এবং ভয়েস রেকর্ডের সত্যতা বিবেচনায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১ পুলিশকে তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত সাংবাদিকতার নিউজ গ্রুপ নম্বর ০১৭১১-৪৩২২৬৯–এও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। “মাসুদ প্রিন্স” নামের একটি আইডি থেকে অশ্লীল ছবি বানিয়ে ছড়ানো, হত্যার হুমকি এবং আপত্তিকর ভিডিও রিলস দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অপরাধী চক্রটি অতীতেও সংঘবদ্ধভাবে এ ধরনের অপরাধ করে আসছে বলেও দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে অতীতের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩ মে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ বরাবরে অভিযোগ নং ১৫৭ রেকর্ডভুক্ত হয়। তবে অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এরপরও অপরাধী চক্রের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ গত ৩১.০১.২০২৬ ইং তারিখে পুনরায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তোহিদুল আনোয়ার জানান, মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা এফআইআর ও অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার মামলা–বিরোধিতাকে কেন্দ্র করেই একটি চক্র এই অপরাধগুলো সংঘটিত করছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টরা সাইবার অপরাধ দমন, ভুয়া ওয়ারেন্ট ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
