সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র অব্যাহত: অপরাধ দমন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ধারাবাহিক অপরাধ, হামলা, দস্যুতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে কুমিল্লা নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা, পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত প্রায় এক দশক ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ৩ মে জিডি নম্বর ১৫৭ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জিডি নম্বর ৭৩০ পর্যন্ত একাধিক জিডি দায়ের করেন তিনি।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে এফআইআর নম্বর-৪১ ও জিআর নম্বর-৮৫০ মূলে ৮ জন এজাহারনামীয় আসামি ও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা চাঁদা দাবি করে অস্ত্র প্রদর্শন, মারধর, কুপিয়ে জখম ও গুলিবর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্তের ভিত্তিতে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ আসামি এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আরেকটি ঘটনায় এফআইআর নম্বর-৫১ ও জিআর নম্বর-৮১২ মূলে পরিকল্পিত দস্যুতা মামলা রেকর্ড হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলযোগে হেলমেট পরিহিত অস্ত্রধারীরা কুমিল্লা সেনানিবাসে যাওয়ার পথে তার ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

পরবর্তীতে সাইবার বুলিং, অনুসরণ ও বিভিন্ন ছদ্মবেশী চক্রের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ এনে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতে নালিশি মামলা (মামলা নং-১৬৬/২৬) দায়ের করেন তিনি।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র বন্ধ, অপরাধ দমন এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ জানান, দায়েরকৃত মামলা ও জিডির ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঠিকানা পরিবর্তন ও পলাতক থাকার কারণে গ্রেপ্তারে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একাধিক গুরুতর মামলার আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে জনমনে আতঙ্ক ও অনাস্থা সৃষ্টি হতে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply