

স্টাফ রিপোর্টার :
সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ধারাবাহিক তৎপরতায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই অপরাধী চক্রের অপরাধের শেষ কোথায়? একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে পুঁজি করে একটি রাজনৈতিক অপশক্তির সঙ্গে আঁতাত করে চক্রটি চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ ও অমানবিক দাবি আদায় করছে।
ভিকটিম পেশাজীবী ও মানবাধিকার বিষয়ক খবরের বিশেষ প্রতিনিধি মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র এ বিষয়ে বলেন,
“২০১৭ সাল থেকে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি ধারাবাহিকভাবে অপরাধ করে আসছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পূর্বের রেকর্ড অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করলে প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই চক্রটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে অপরাধ সংঘটিত করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করলে অপরাধীরা ধরা পড়বে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে যখন মানুষ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে, তখন নিরীহ মানুষ বিচার পাবে না—এমনটা হতে পারে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, এই চক্রের কাছে অপরাধই একটি বাণিজ্য।
একজন ব্যবসায়ী বলেন,
“তারা চুক্তিভিত্তিক অপরাধ করে। মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে, পরে মামলা জিতিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়, বিদেশে যাওয়ার টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। ভিকটিম ও বিবাদী—দুই পক্ষের কাছ থেকেই তারা অর্থ আদায় করে এবং আগেই বিভিন্ন জায়গায় ম্যানেজ করে ফেলে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই সংঘবদ্ধ চক্রে বিভিন্ন বয়সী প্রায় ২০ থেকে ২৪ জন সদস্য রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে উভয় পক্ষকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়ে মামলা, হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সমাজে সম্মানহানির মতো গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী চক্রটির সক্রিয় থাকা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমেই এই সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব।
