লাকসামে মাদ্রাসায় আগুন লেগে পুড়ে গেছে ভবন,তারাবি নামাজে থাকায় বেচে গেলেন শিক্ষার্থীরা।

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার লাকসামে তারাবি নামাজ আদায় করতে মসজিদে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ছালেহিয়া ওয়ালিয়া দীনিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীরা। অগ্নিকাণ্ডে মাদ্রাসার টিনশেড ভবনের একাধিক কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাকসাম উপজেলা রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন ছালেহিয়া ওয়ালিয়া দীনিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের ভেতরে থাকা মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ভবন থেকে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া বের হতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই টিনশেড ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ জানান, অগ্নিকাণ্ডে মাদ্রাসার রান্নাঘরসহ ৭টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বইপত্র, আসবাবপত্র, থাকার বিছানাপত্র (বেডিং) এবং রাতে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা সেহরির খাবারও পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব জাহিদুল মাওলা চৌধুরী বলেন, “গভীর রাতে ছাত্ররা যখন কক্ষে ঘুমিয়ে থাকে তখন যদি এই অগ্নিকাণ্ড ঘটত, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে শিক্ষার্থীরা তখন মসজিদে তারাবি নামাজে থাকায় সবাই নিরাপদ রয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a Reply