

স্টাফ রিপোর্টারঃ
দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্রের ধারাবাহিক নাশকতা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মব সৃষ্টি ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সুবিচার ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লার এক সাংবাদিক।
অভিযোগে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা, পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র দাবি করেন—একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মবেশে অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক, ডাকাতি, ব্ল্যাকমেইলিং, তথ্য বিভ্রান্তি ও গুপ্তচরবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে হেলমেট ও মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটায়। এমনকি প্রশাসনের ছদ্মবেশ ধারণ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত কয়েকজন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছে।
এ বিষয়ে -এ একাধিক জি আর ও সি আর মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে এফআইআর নং ৪১ (জি আর ৮৫০, তারিখ: ১৪.১১.২০২৪) এবং এফআইআর নং ৫১ (জি আর ৮১২, তারিখ: ১৬.১০.২০২৫) তদন্তাধীন বলে জানা গেছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একাধিক জিডি দায়ের করা হয়েছে। সর্বশেষ ০১ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনলাইন জিডি নং–২৬ রেকর্ডভুক্ত হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও আসামিপক্ষের সহযোগীরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিজ ও পরিবারের জানমাল, সুনাম ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ প্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি (রিসিভড ডকেট নং–৩৪৩৯, তারিখ: ০১.০৩.২০২৬) এবং পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ (স্মারক নং–১৫৭০/এম, তারিখ: ০১.০৩.২০২৬) প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে মানবাধিকার সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মী ও “মানবাধিকার খবর”-এর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, একজন সাংবাদিক আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা উদ্বেগজনক। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
অন্যদিকে -এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দায়েরকৃত মামলা ও জিডির ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থান পরিবর্তনের কারণে কিছু আসামিকে গ্রেপ্তারে সময় লাগলেও দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধী ও সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
