

ডেস্ক রিপোর্টঃ
মোহাম্মদ জাবের হোসাইন
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
আমরা কুমিল্লার তরুণ প্রজন্ম।
কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে “কিশোর গ্যাং” একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। ছোট ছোট দলে বিভক্ত কিশোররা বিভিন্ন সময় মারামারি, চাঁদাবাজি, সামাজিক মাধ্যমে হুমকি-ধামকি, এমনকি মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেও জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক কাঠামোর দুর্বলতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের এই পথভ্রষ্ট হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পরিবারে পর্যাপ্ত নজরদারি ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধমূলক কনটেন্টের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব ও অবসর সময়ের অপব্যবহার—এসবই কিশোরদের ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রভাবশালী বড় ভাই বা স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব গ্যাং গড়ে ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, নৈতিক শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা জরুরি। একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে—সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, অনলাইনে কী করছে—এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা এখন সময়ের দাবি।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে কিছু অভিযান পরিচালনা করেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে কেবল অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করাও জরুরি। কমিউনিটি পুলিশিং, স্থানীয় ক্লাব ও যুব সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমাদের কিশোররা অপরাধী হয়ে জন্ম নেয় না; তারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই তাদের শাস্তির পাশাপাশি পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
কুমিল্লার কিশোর গ্যাং সমস্যা সমাধানে সরকার, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, এই সমস্যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সময় এসেছে সচেতন হওয়ার, এগিয়ে আসার এবং আমাদের আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যতের পথে ফিরিয়ে আনার।
