লাকসামে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার সাতঘর ইছাপুরা এলাকায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আবু ছাইদ (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে লাকসাম পৌরসভার ধানবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবু ছাইদ সাতঘর ইছাপুরা এলাকার হাসেম দপ্তরীর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত আলী হোসেনের ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর। ঘটনার দিন পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা পাশের বাড়িতে পানি আনতে যান। এ সময় শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই সুযোগে আবু ছাইদ শিশুটির ঘরে প্রবেশ করেন।

এজাহারে শিশুটির মা অভিযোগ করেন, আবু ছাইদ শিশুটির পোশাক খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

ঘটনার পর ১৭ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় দায়ের করা মামলায় আবু ছাইদকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাকসাম থানার এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ধানবাজার এলাকা থেকে আবু ছাইদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামির জড়িত থাকার বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় যাচাইয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন নাহার লাইলী বলেন, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply