

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে। বোর্ডটির অধীন ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারে নি। বিপরীতে শতভাগ কৃতকার্য হওয়া কলেজের সংখ্যা মাত্র চারটি। ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়া ওই ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়াসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, কুমিল্লা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা সর্বনিম্ন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৫৬টি কলেজের মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী ১৯৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৪ হাজার ৭২৭ জন এবং ফেল করেছেন ৪৭ হাজার ৪৩৫ জন শিক্ষার্থী। বিগত ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৭০৭ জন। সেই তুলনায় এবার পাসের হার সামান্য কমলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
যে ১৫ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল: শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুর সদরের চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মতলব দক্ষিণের ড. এম শামসুল হক মডেল কলেজ, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চৌদ্দগ্রামের বগৈর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়ার প্রফেসর সিকান্দার আলী ভূঁইয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ, কমলনগরের তুরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ফজু মিয়ার হাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দীন আলোকিত কলেজ ও লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফেনী সদরের বেগম শামসুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিকন মডেল কলেজ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আপার মডেল কলেজ।
শতভাগ পাস করা ৪ প্রতিষ্ঠান: শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা সদরের ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, মেঘনা উপজেলার মুজাফফর আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
ফলাফলের সার্বিক বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর ইংরেজি ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত স্মার্টফোন আসক্তি, শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারসহ সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ এ ফলাফলের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শূন্য পাস করা ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অতি দ্রুত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হবে এবং সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিধিমোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
