

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে খাসির মাংসে ইনজেকশনের মাধ্যমে পানি প্রবেশ করিয়ে ওজন বৃদ্ধি এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস তাজা বলে বিক্রির অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে লাকসাম দৌলতগঞ্জ মাংসের বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষ্ণ কমল মল্লিকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাজারের একটি মাংসের দোকানে খাসির মাংসে ইনজেকশনের মাধ্যমে পানি প্রবেশ করিয়ে ওজন বাড়িয়ে বিক্রির বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ছাড়া ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস তাজা মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, লাকসামের বিভিন্ন মাংসের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাংসে পানি মিশিয়ে ওজন বৃদ্ধি এবং ওজনে কারসাজি করে বিক্রির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয় ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), লাকসামের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে মাংস ব্যবসায়ীদের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সতর্ক করার পরও কিছু ব্যবসায়ী এসব অনিয়ম থেকে সরে আসেননি।
সচেতন মহলের মতে, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় মাংসের বাজারে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাংসে পানি প্রবেশ করিয়ে ওজন বৃদ্ধি, বাসি বা সংরক্ষিত মাংস তাজা বলে বিক্রি এবং ওজনে কারসাজির মতো অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।
ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
