লাকসামে অন্ধ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান

ছানি অপারেশনের জন্য ৪৩ রোগীকে নেওয়া হয় কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লার উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্যাম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি চোখের ছানি অপারেশনের জন্য ৪৩ জন নারী-পুরুষ রোগীকে কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের তপইয়া মইয়েরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১০ সদস্যের চিকিৎসা দলের তত্ত্বাবধানে দিনভর স্থানীয় অসহায় ও সাধারণ মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লার উদ্যোগে পরিচালিত এ ক্যাম্পে চারজন চিকিৎসক রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। চিকিৎসা দলের সদস্যরা হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন, ডা. সমীর রঞ্জন, ডা. জিয়াউর রহমান ও ডা. হারুনুর রশিদ।

এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লার সভাপতি ও কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের প্রধান ডা. আব্দুস সেলিম প্রধান, অ্যাডভোকেট তাইফুল আলম এবং সহসভাপতি আবুল হাসনাত বাবুলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ডা. এ কে এম আব্দুস সেলিমে ও উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসা ক্যাম্পে চোখের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও বিনামুল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে,এমন ৪৩ জন রোগীকে উন্নত চিকিসার মাধ্যমে ছানি অপারেশনের জন্য কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ উদ্যোগের ফলে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, চক্ষু চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ২৬ অক্টোবর লাকসাম পৌরসভায় আরও একটি বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে।

এ চিকিৎসা ক্যাম্পের সার্বিক আয়োজন ও উদ্যোগে ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মহিন উদ্দিন মোল্লা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিয়মিত পরিচালিত হলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সহজে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং চোখের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply