

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:
কুমিল্লায় অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় ১৩ বছর পর জামাল হোসেন নামে এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ জুলাই) কুমিল্লার ৯ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
আসামি জামাল হোসেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৫ নম্বর শ্রীপুর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে।
মামলার বাদী রোকেয়া আক্তার রিদনের অভিযোগ, ২০১৩ সালে জামাল হোসেন একটি সমিতি গঠন করে জমি ক্রয়ের আশ্বাস দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। তার দাবি, এভাবে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লা আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বাদীর ভাষ্য, অর্থ সংগ্রহের পর জামাল হোসেন দুবাইয়ে চলে যান। দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরে তিনি আগাম জামিন নেন। পরে আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তার জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদী রোকেয়া আক্তার রিদন বলেন, “জমি কেনার কথা বলে ছলে-বলে-কৌশলে মানুষের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, জামাল হোসেন এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলাও রয়েছে। এছাড়া একটি বৃহত্তর গ্রাম সমিতি থেকে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, জামাল হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্রে গাজীপুরের এবং পাসপোর্টে চট্টগ্রামের মনসুরাবাদের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, তিনি প্রতারণার উদ্দেশ্যে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
