তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট; আহত ২০

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশন বাজারে আচার খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকান ও একটি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া বিক্ষুব্ধ লোকজন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার ও খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দীর্ঘ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশন বাজারে হাতীমারা গ্রামের এক নারীকে পুজকরা গ্রামের এক আচার বিক্রেতা আচার খাওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই নারী ও আচার বিক্রেতার মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ওই নারীর স্বামী আচার বিক্রেতাকে মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে হাতীমারা ও পুজকরা গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় নাঙ্গলকোটের পুজকরা এলাকায় একটি মিলফ্যাক্টরি ও তিনটি দোকান এবং মনোহরগঞ্জের হাতীমারা গ্রামের দুটি দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে হাতীমারা গ্রামের পারভেজ ও পুজকরা গ্রামের রাকীবের নাম জানা গেছে।

পুজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকালে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল কারখানার এলাকায় এসে হামলা চালায়। এ সময় কারখানার আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানে লুটপাটের পাশাপাশি কারখানার একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া এবং অফিস ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে পুজকরা গ্রামের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে হাতীমারা গ্রামের জামাইর দোকান এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, মঙ্গলবার রাতে নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতীমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুজকরা গ্রামের কয়েকজন আপত্তিকর কথা বলেন। এর প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করেই পরদিন উত্তেজনা তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে মাইকিং করে পুজকরা গ্রামের লোকজন হাতীমারা গ্রামের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে বাধা দিতে গিয়ে হাতীমারা গ্রামের ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা লাকসামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার ও খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

খবর পেয়ে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তারা, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট ও লাকসাম থানা পুলিশের সদস্য এবং কুমিল্লা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়।

এ ঘটনায় এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Leave a Reply