

ধারালো অস্ত্রের হামলায় এলাকায় আতঙ্ক, অভিযুক্ত ইমন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এক নারী ও তার এক বছর বয়সী নাতনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত নারীর পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পেয়ারা বেগম (৬২) ও তার এক বছর বয়সী নাতনি। আহত রাবেয়া বেগমকে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত শিশু দেখে মনে হচ্ছে ঘুমাচ্ছে
ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমন মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে বড়শালঘর গ্রামের একটি বাড়িতে ইমন মিয়ার সঙ্গে তার মা পেয়ারা বেগমের কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইমন ধারালো দা দিয়ে তার মাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় শাশুড়িকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম। তখন তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একই সময় বাড়িতে থাকা এক বছর বয়সী শিশুটিও হামলার শিকার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পেয়ারা বেগম ও শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তারা ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে দ্রুত উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর বড়শালঘর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে তারা অভিযুক্ত ইমনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে তারা জানেন। সোমবার সকালে হঠাৎ তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে পুত্রবধূও গুরুতর আহত হন। এ সময় শিশুটিও হামলার শিকার হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পেয়ারা বেগম ও এক শিশু নিহত হয়েছেন। ইমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং হামলার পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
