

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের মাহমুদুল হাসান ওরফে ‘জাইল্লা মোহাম্মদ’কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়ভাবে তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধীদের ভয়ভীতি দেখানো ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এলাকায় না পেলে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বানঘর গ্রামের কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তারা।
এ ছাড়া লক্ষণপুর এলাকার সিএনজি স্টেশনের চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে জাইল্লা মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি চক্রের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা ও আইনি অবস্থান তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, জাইল্লা মোহাম্মদের বড় ভাই রহিমের বিরুদ্ধেও অতীতে একটি তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ও কারাবাসের ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে আদালতের নথি ও রায় যাচাই ছাড়া ওই ঘটনায় কারও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না।
এদিকে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাইল্লা মোহাম্মদ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এলাকায় অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেছেন—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
জাইল্লা মোহাম্মদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। অভিযোগগুলো তদন্তাধীন থাকায় আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
