

লাকসাম কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লার লাকসামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে ঘুরতে বের হন নানা বয়সী মানুষ। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে উপজেলার বিভিন্ন পার্ক, খেলার মাঠ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা এলাকা ও বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষের ঢল নামে।
বিশেষ করে লাকসাম জংশন লেকের পাড়ে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। নতুন পোশাক পরে অনেকেই পরিবারসহ ঘুরতে এসে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। বিভিন্ন খাবারের দোকান, ফুচকা-চটপটির স্টল, আইসক্রিম ও শিশুদের খেলনার দোকান বসায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দর্শনার্থীরা জানান, দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার পর ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একটু আনন্দময় সময় কাটাতে তারা বাইরে বের হয়েছেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকেও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে আসেন। তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের রেললাইনের উপর হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে ট্রেন চলাচলের সময় অনেককেই ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনে অবস্থান করতে দেখা যায়।
এছাড়াও সন্ধ্যার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা। অনেকেই জানান, কিছু উচ্ছৃঙ্খল কিশোরের বেপরোয়া আচরণ ও উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
তবে ঈদের দ্বিতীয় দিনে লাকসাম জংশন লেকের পাড়ে লাকসাম থানা পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। লাকসাম থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। পুলিশের এমন তৎপরতায় সাধারণ দর্শনার্থীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে আসে।
এদিকে অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে এবং কোথাও যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ঘুরতে আসা পর্যটকরা।
ঈদের আনন্দকে ঘিরে লাকসামের সর্বত্র ছিল উৎসবের আমেজ। দিনভর মানুষের কোলাহল ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। একইসঙ্গে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
