কুমিল্লায় সেনা-আনসার যৌথ মহড়া পরিদর্শনে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক।

সঞ্জীবন প্রকল্পে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশনা

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ৷ ১২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএডব্লিউসি, পিএসসি কুমিল্লা সফরকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন সেনা-আনসার যৌথ মহড়া পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে তিনি বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত সঞ্জীবন’ প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রোববার সকালে কুমিল্লা রেঞ্জ আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে পৌঁছালে মহাপরিচালককে আনসার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে রেঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভাতাভোগী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এককভাবে নয়, সম্মিলিত উদ্যোগই সঞ্জীবন প্রকল্পের সফলতার মূল চাবিকাঠি। ঐক্যবদ্ধ শক্তি কখনো পরাজিত হয় না।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো জাতীয় সংকটে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দলগতভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। একইভাবে সঞ্জীবন প্রকল্প বাস্তবায়নেও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে সফলতা অর্জন সম্ভব। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকল্প পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মহাপরিচালক সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক প্রকল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সদস্যরা এ খাতে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন। এতে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে অবদান রাখার পাশাপাশি সদস্যদের আর্থিক স্বাবলম্বিতাও নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও জানান, সঞ্জীবন প্রকল্পে মূলধনের সংকট দূর করতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্পসুদে গ্রুপভিত্তিক ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাহিনীর ডিজিটাল সফটওয়্যার AVMIS-এ নিবন্ধিত সদস্যদেরই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

পরে মহাপরিচালক কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন সেনা-আনসার যৌথ মহড়া পরিদর্শন করেন। টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উপজেলা ও থানা আনসার সদস্য এবং সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যরা রেইড, অ্যামবুশ, আত্মগোপন, রোড ম্যাপিং, স্কেচ অঙ্কন ও বাংকার নির্মাণসহ বিভিন্ন কৌশলগত প্রশিক্ষণে অংশ নেন। মহাপরিচালক এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও মনোবলের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সদস্যদের মানসিক দৃঢ়তা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন-এর আলোকে গঠিত ভিডিপির মূল দর্শন ছিল জাতীয় প্রতিরক্ষায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, আর বর্তমান যৌথ মহড়া সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন।

দুপুরে কুমিল্লা রেঞ্জ কার্যালয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে মহাপরিচালক চলমান বন্যা পরিস্থিতি, উদ্ধার কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার ও ভিডিপির ভূমিকা নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়ন সঞ্জীবন সুরক্ষা দল-১-এর সভাপতি শাহ এমরান, সঞ্জীবন সুরক্ষা দল-২-এর সভাপতি আবুল কালাম এবং উত্তরদা ইউনিয়নের সঞ্জীবন প্রকল্পের সকল সদস্য। তারা মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সঞ্জীবন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শেষে মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, সঞ্জীবন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাহিনীর অবদান আরও সুদৃঢ় হবে।

Leave a Reply