কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে বালিশচাপায় ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু, মায়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সাত মাস বয়সী এক শিশুকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় লোকমান হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুটির নাম ফারাবি। গ্রেপ্তার ফাতেমা বেগম মান্দ্রা গ্রামের মরহুম আবুল কালামের মেয়ে। তিনি পার্শ্ববর্তী ভবানীপুর গ্রামের নাছির উদ্দিনের স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত শনিবার সকালে ফাতেমা তার সাত মাস বয়সী ছেলে ফারাবিকে সঙ্গে নিয়ে বড় বোন ইয়াছমিনের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থানকালে সোমবার ভোরের দিকে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার করতে থাকে।

একপর্যায়ে ফাতেমা তার বড় বোনকে জানান, তিনি শিশুটিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। পরে ইয়াছমিন দ্রুত ওই কক্ষে গিয়ে শিশুটিকে মুখের ওপর বালিশ দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বাজারের একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির খালা ইয়াছমিন জানান, তার বোন ফাতেমা গত প্রায় তিন বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে পরিবারের ধারণা।

ফাতেমার মা খোদেজা বেগমও দাবি করেন, তার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ওপর ‘জ্বীন-ভূতের প্রভাব’ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো চিকিৎসা নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর ইসলাম জানান, শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ঘটনায় তার মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয় আরও স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply