

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ফতেপুর বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল এলাকায় জমে উঠেছে মাসব্যাপী ‘শিশু-কিশোর আনন্দ মেলা ২০২৬। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলায় শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
লাকসাম পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরুর সন্তান রাফসানুল ইসলাম মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছেন।
মেলায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পণ্যের স্টল বসানো হয়েছে। এসব স্টলে ফুচকা, আচার, বিভিন্ন খাবার, খেলনা, কসমেটিকসসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, নৌকা দোলনা, ট্রেন, জাম্পিংসহ বিভিন্ন ধরনের রাইড।
শুধু শিশুদের বিনোদন নয়, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য নাচ-গানসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনও রাখা হয়েছে। ফলে বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি।
মেলা পরিচালনার জন্য আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে বলে জানা গেছে। তারা মেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা, দর্শনার্থীদের সহযোগিতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন। দিন যত যাচ্ছে, মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন পর এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের বিনোদনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্যও একটি আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই মেলায় আসছেন এবং বিভিন্ন রাইড ও খাবারের স্টল ঘুরে দেখছেন।
তবে মেলার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে কিছু দর্শনার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর মেলা এলাকায় টিকটকার ও কিছু কিশোরের দলবদ্ধ চলাচল বেড়ে যায়। এতে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন বলে তারা জানান।
মেলায় আগত কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, শিশুদের নিয়ে সন্ধ্যার পর মেলায় আসতে হলে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের উপস্থিতি থাকলে তারা আরও স্বস্তি বোধ করবেন।
তাদের দাবি, অন্তত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মেলা এলাকায় থানা পুলিশের টহল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হোক। এতে মেলায় আগত নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মেলার বাকি সময়জুড়ে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
