লাকসামে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন


লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা, সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে কুমিল্লার লাকসামে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় লাকসাম উপজেলা অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর লেখনীতে যেমন অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা ফুটে উঠেছে, তেমনি তাঁর কবিতা ও গানে প্রকাশ পেয়েছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা।

তারা বলেন, নজরুল শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন বাঙালির জাগরণ ও মানবমুক্তির অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। তাঁর সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ ভুলে মানবতার পক্ষে অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও তাদের নিজস্ব সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও শক্তিশালী হবে।

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মকে আরও কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক, তাঁর বিদ্রোহী চেতনা, সংগীতচর্চা, সমাজ সংস্কারের চিন্তা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নজরুলের লেখা পড়ার পাশাপাশি তাঁর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের নজরুলসংগীত পরিবেশনা। পরে নবাব ফয়েজুন্নেছা ও বদরুন্নেসা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয় এবং লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মঞ্চে নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। তাদের সুরেলা পরিবেশনায় অডিটোরিয়ামজুড়ে সৃষ্টি হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ। উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।

এ সময় আয়োজকরা জানান, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তারা বলেন, প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা নয়; বরং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজরুল বর্ষের সকল কর্মসূচি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদানকে স্মরণ এবং তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে লাকসাম উপজেলায় এ আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মাঝে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Leave a Reply