

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লায় ডাকাতি সংঘটনের প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও একটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের সদর দক্ষিণ থানার লালমাই বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পিকআপে থাকা দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় গ্রেপ্তার এড়াতে মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করলে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, ওই রাতে সদর দক্ষিণ থানার পদুয়ার বাজার এলাকায় তারা একত্রিত হন। পরে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের পরানপুর বাজার এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ লালমাই বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে ডাকাতির ঘটনা সংঘটনের আগেই তাদের আটক করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম প্রধানিয়া ফারুককে ডাকাত দলের সর্দার হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানায় পাঁচটি নিয়মিত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—চাঁদপুর সদর থানার হোসেনপুর এলাকার জহিরুল ইসলাম প্রধানিয়া ফারুক (৫৩), হাজীগঞ্জ থানার ঢড্ডা এলাকার মো. মামুন মিজী (৪৫), ফরিদগঞ্জ থানার সাচইনমেঘ এলাকার মো. কবির ভূইয়া (৪০), চাঁদপুর সদর থানার মদনা এলাকার মো. রবিউল আলম (৩৫) এবং ফরিদগঞ্জ থানার ভাটিয়ালপুর এলাকার মো. নজরুল ইসলাম (৩৫)। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি লোহার বোল্ট কাটার, একটি সেলাই রেঞ্জ, একটি প্লাস, একটি লোহার রড, দুটি কাঠের বাটযুক্ত কিরিজ, একটি কাঠের বাটযুক্ত হাসুয়া ও একটি কালো রঙের কাপড়ের ব্যাগ** জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ ও একটি কালো রঙের ডিসকভার মোটরসাইকেল জব্দ করেছে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
