কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউসার হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদ গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তার বড় ভাই তানজিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ছত্রখিল এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে তানজির ও তার ছোট ভাই তৌহিদের সঙ্গে কাপ্তানবাজার এলাকার কাউসার ও শামীমের বিরোধ চলছিল।

গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই জায়গায় কফি শপ নির্মাণের কাজ করছিলেন তৌহিদ, তানজিরসহ আরও কয়েকজন। এ সময় কাউসার ও শামীমসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তৌহিদ তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউসারকে গুরুতর জখম করেন। এ সময় অন্যরাও তাকে মারধর করেন। হামলায় অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত কাউসারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে, তার বড় ভাই তানজিরকে এসআরবি গ্রেপ্তার করেছে বলে সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনার দিন সকালে তৌহিদ তার বড় ভাই তানজিরকে ফোন করে আরও কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে আসতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কফি শপ নির্মাণের কাজ করতে গেলে কাউসার ও শামীম বাধা দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

এদিকে, তৌহিদের বিরুদ্ধে আগের একটি হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তার বড় ভাই তানজিরের বিরুদ্ধেও একটি মামলা রয়েছে।

কাউসার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply