​মানবতার সেবায় অনন্য কুমিল্লা: ৬ বছর ধরে পথে পথে চলছে সাহরি ও ইফতার বিতরণ।

​নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা।

আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
​নগরের ব্যস্ততম কান্দিরপাড় থেকে শুরু করে রাজগঞ্জ, শাসনগাছা কিংবা টাউন হল মোড়, কুমিল্লা প্রেসক্লাব -বিগত ছয়টি বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে এই এলাকাগুলোতে দেখা যায় এক চেনা কিন্তু উজ্জ্বল দৃশ্য। যখন নগরের মানুষ নিজের ঘরে পরিবারের সাথে আয়েশ করে ইফতার বা সাহরি সারেন, ঠিক তখনই একদল তরুণ প্রাণ পথে পথে খুঁজে বেড়ান ক্ষুধার্ত মানুষকে। কোনো প্রতিদান নয়, কেবল আত্মতৃপ্তি আর স্রষ্টার সন্তুষ্টির আশায় কুমিল্লার বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই মহৎ কাজ করে যাচ্ছে।
​নিরবচ্ছিন্ন মানবিক পথচলা
​২০২০ সালের সেই কঠিন সময় থেকে শুরু করে আজ ২০২৬ পর্যন্ত, টানা ছয় বছর ধরে এই কার্যক্রম থমকে যায়নি একদিনের জন্যও। শুরুতে স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। কুমিল্লার কয়েকটি পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলা, আমরা কুমিল্লার তরুণ প্রজন্ম,ক্বাদেরিয়া ইসহাকিয়া ফাউন্ডেশন, ফাতিহা ফাউন্ডেশন, জাগরণ মানবিক সংগঠন, কুটুম বাড়ি বিরিয়ানি হাউজ, “গাজী মোঃ মন্তাজ উদ্দিন ফাউন্ডেশন” কাজী ফাউন্ডেশন
—যাদের মধ্যে তরুণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ পেশাজীবীরা রয়েছেন—ব্যক্তিগত তহবিল ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এই আয়োজন সফলভাবে পরিচালনা করছেন।
​সেবার ধরণ: ইফতার থেকে সাহরি
​সংগঠনগুলোর এই কার্যক্রম মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
​ভ্রাম্যমাণ ইফতার: প্রতিদিন আসরের নামাজের পর থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। রিকশাচালক, পথচারী, দিনমজুর এবং ভাসমান মানুষের হাতে সময়মতো পৌঁছে দেওয়া হয় মানসম্মত ইফতারের প্যাকেট। অনেক সময় মহাসড়কে আটকে পড়া দূরপাল্লার যাত্রীদের হাতেও পৌঁছে যায় এই উপহার।
​রাত্রিকালীন সাহরি বিতরণ: মধ্যরাতে যখন পুরো শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন এই স্বেচ্ছাসেবীরা বেরিয়ে পড়েন সাহরি নিয়ে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ছিন্নমূল মানুষ এবং যারা রাতে কাজ করেন, তাদের জন্য গরম ভাত ও মানসম্মত তরকারি পরিবেশন করেন তারা।
​যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
​সংগঠনগুলোর সমন্বয়ক মোহাম্মদ জাবের হোসাইন জানান জানান:
​”আমরা যখন শুরু করেছিলাম, লক্ষ্য ছিল কেউ যেন ক্ষুধার্ত পেটে রোজা না রাখে। আজ ছয় বছর পর এসে দেখি, এই কাজটা কেবল আমাদের নয়, পুরো কুমিল্লাবাসীর ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে। পথে থাকা একজন মানুষের হাসিমুখ আমাদের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।”
​সামাজিক সংহতির উদাহরণ
​এই উদ্যোগ কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বরং সমাজের উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। স্থানীয় নাগরিকরা মনে করেন, কুমিল্লার এই ঐতিহ্যবাহী সেবা মানসিকতা সারা দেশের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কোনো সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই প্রকল্পটিকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই সংস্কৃতি কুমিল্লার পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পথে পথে সাহরি ও ইফতার বিতরণের এই নীরব বিপ্লব আগামীতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর।

​💳 মানবতার এই কাজে যুক্ত হতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ

জাবের হোসাইন 01915131242
পিয়ারে মাহবুব 01911-041508
সাজ্জাদ খান 01838-246929

Leave a Reply