লাকসামে ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু।

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর (৪০) মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান। টানা পাঁচ দিন অচেতন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ দুপুরে লালমাই থানা পুলিশ অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা তার জ্ঞান ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও পুরো সময়জুড়ে তিনি অচেতন ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ এলাকায় রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে লালমাই থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে রোগী অচেতন থাকায় তাকে ওয়ার্ডের একটি ফ্লোর বেডে স্থানান্তর করে চিকিৎসা চালানো হয়। বারবার বিছানায় প্রস্রাব-পায়খানা করে ফেলায় অন্যন্যা রুগির কথা মাথায় রেখে তাকে  হাসপাতালের বারান্দায় রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, “রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল, তবুও আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি জানান, এই কয়েকদিনে অজ্ঞাত ওই নারীর খোঁজ নিতে কোনো স্বজন কিংবা পুলিশ সংশ্লিষ্ট কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কোনো নেশাজাতীয় বা অচেতনকারী পদার্থ খাওয়ানো হয়েছিল।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে লাকসাম সরকারি হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে অচেতন রোগীকে বারান্দায় রাখার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Reply