কুমিল্লার লাকসামে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়ে যাওয়াই জলাতঙ্ক ভেক্সিন কার্যক্রম শুরু।

লাকসাম কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের ওপর কুকুরের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনে লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু, যা অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সন্তানদের বাইরে খেলাধুলা করতে দিতে ভয় পাচ্ছেন।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, গত এক সপ্তাহে শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই ২০ জনেরও বেশি কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, কুকুরের কামড়ের ফলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার সকাল ১০টায় ভেক্সিনেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০ঃ৩০ টার দিকে লাকসাম উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরগুলোকে শনাক্ত করে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

ভেক্সিন কার্যক্রম উদ্বোধনী  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নারর্গিস সুলতানা, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা কৃষ্ণ মল্লিক, লাকসাম পৌরসভার চিকিৎসক ও স্টাফসহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহির আহমেদ সবুজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

কার্যক্রমের শুরুতে উপজেলা পরিষদ মাঠে কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুরকে ধরে সফলভাবে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। তবে পরবর্তীতে কিছু কুকুর ধরা সম্ভব না হওয়ায় তারা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে দৌলতগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালিয়ে কুকুরগুলোকে ধরে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য নীলফামারী জেলা থেকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষিত ‘ডগ ক্যাচিং স্কোয়াড’ আনা হয়েছে। তারা বিশেষ কৌশলে কুকুর ধরে নিরাপদভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগে সহায়তা করছে।

এদিকে বন্যপ্রাণী আইনে কুকুর হত্যা নিষিদ্ধ থাকায় প্রশাসন কুকুর নিধনের কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ফলে বিকল্প হিসেবে কুকুরের প্রজনন নিয়ন্ত্রণ, ভ্যাকসিন প্রদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই কার্যক্রম যেন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। তারা দাবি জানান, পৌরসভা ও উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোতেও বেওয়ারিশ কুকুরের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হলে তবেই এর সুফল পাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের কামড়ের ফলে জলাতঙ্ক রোগ হলে তা প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই রোগ প্রতিরোধে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ধাপে ধাপে উপজেলার সকল বেওয়ারিশ কুকুরকে এর আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার এবং কুকুরের কামড়ের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply