কুমিল্লার লাকসামে গুড়িয়ে দেওয়া হলো নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জমিদার বাড়ির সামনের অবৈধ  দেওয়াল

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা কুমিল্লার লাকসামের ঐতিহাসিক নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জমিদার বাড়ির প্রধান প্রবেশপথ অবশেষে উন্মুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ধারাবাহিক দাবি ও প্রতিবাদের পর প্রবেশপথে নির্মিত অবৈধ দেয়াল অপসারণের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইতিহাসপ্রেমী মানুষ।

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে কয়েক বছর আগে জমিদার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে দেয়াল নির্মাণ করে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বিষয়টিকে শুধু একটি পথ বন্ধ করা নয়, বরং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন।

সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে অবরুদ্ধ ওই প্রবেশপথের দেয়াল অপসারণ করা হলে বহুদিনের জটিলতার অবসান ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনাটিকে স্বাগত জানান এবং ঐতিহ্য রক্ষায় জনসচেতনতার বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর বংশধর ও ওয়াকফ এস্টেটের মোতোয়াল্লি সৈয়দ মাসুদুল হক বলেন, “প্রবেশপথটি উন্মুক্ত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সচেতন নাগরিকদের ভূমিকার কারণে আজ এই পথ আবারও মানুষের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবেশপথ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনিক পর্যায়ে একাধিক অভিযোগ, আবেদন এবং আদালতে মামলাও হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জমিদার বাড়ি শুধু লাকসামের নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি। তাই এর সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রবেশপথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবিতে জনমতের শক্তিই আবারও প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply