কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে ‘মৃত্যুফাঁদ’ চন্দনা বাজার

প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ—ঝুঁকিতে ১০০০ শিক্ষার্থী

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চন্দনা বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়ক পারাপারের সময় স্কুলশিক্ষার্থী, পথচারী ও যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এ এলাকায় দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের অধিকাংশ অংশে চার লেনের কাজ সম্পন্ন হলেও ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চন্দনা বাজারসহ কয়েকটি অংশ এখনো দুই লেনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে চার লেনের প্রশস্ত সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে চলাচলকারী যানবাহন হঠাৎ দুই লেনের অংশে প্রবেশ করলে চালকদের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়। এতে প্রায়ই সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

বিশেষ করে উত্তরদা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন চন্দনা বাজার এলাকাটি এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের পাশেই রয়েছে উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয় এবং উত্তরদা সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয় এবং প্রগতি পাঠাশালা ও সরকারি হাসপাতাল , যেখানে প্রায় ৮০০-১০০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও পথচারী ব্যস্ত মহাসড়কটি পারাপার হন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে নেই কোনো ফুটওভার ব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা।

স্থানীয়রা জানান, সড়ক পার হতে গিয়ে এ এলাকায় ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন প্রাণ, আবার কেউ গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে হাত-পা হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চন্দনা বাজারের মতো জনবহুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজ ও প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে যেকোনো সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

Leave a Reply