

স্টাফ রিপোর্টারঃ
বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তিন বান্ধবী। কিন্তু তাদের আসল গন্তব্য ছিল বিদ্যালয় নয়—পার্কে ঘুরতে যাওয়া। ব্যাগের ভেতরে রাখা ছিল অতিরিক্ত পোশাক ও টিফিনের খাবার। পরিকল্পনা ছিল স্কুল ফাঁকি দিয়ে দিনটি আনন্দে কাটানোর। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বন্যাকবলিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বিদ্যালয়ের পোশাক পরা তিন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তাঁর কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তিনি গাড়ি থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তাদের আসল পরিকল্পনা। তারা জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও স্কুলে না গিয়ে পার্কে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
পরে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় তিন শিক্ষার্থীকে ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানিয়ে তাদের অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও সেখানে ডেকে পাঠানো হয়।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৈশোরে অভিভাবকের নজরদারি ছাড়া এ ধরনের পরিকল্পনা শুধু পড়াশোনায় ব্যাঘাতই নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারির পাশাপাশি পরিবার ও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
