লাকসামে হিমাচল বাস দুর্ঘটনা, যাত্রীদের রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে নোয়াখালীগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অতিরিক্ত গতিতে চলার সময় পেছনের চাকা ফেটে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি ব্রিজে সজোরে ধাক্কা দেয় । এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কয়েকজন যাত্রী আহত হন।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নতুন ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হিমাচল বাসের দরজা

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, হিমাচল পরিবহনের বাসটি নোয়াখালীর উদ্দেশে যাচ্ছিল। বাসটি অতিরিক্ত গতির কারণে কন্ট্রোলে রাখতে পারে নি চালক । স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার আগে বাসটির গতি প্রায় ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ছিল। কৃষ্ণপুর নতুন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বাসটির পেছনের একটি চাকা ফেটে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশের ব্রিজে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বাসটির কাছে তারা দেখতে পান, বাসটির সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসের একটি দরজা ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাসটি পুরো সড়কজুড়ে আড়াআড়িভাবে আটকে থাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

দূর্ঘটনা কবলিত বাস উঠানোর সময় ছবি

বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন যাত্রী হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হন এবং অনেকেই দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত ও আতঙ্কিত যাত্রীদের বাস থেকে বের করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক, হেলপারসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

তবে কিছুক্ষণ পর চালক ও হেলপার আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়কের নিচ থেকে উঠিয়ে এনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বাসটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

দুর্ঘটনার পর সড়কে আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। অনেকে দীর্ঘ সময় মহাসড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন অন্য একটি বাস থামিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত হিমাচল বাসের যাত্রীদের বাসে তুলে দেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা চলে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে লাকসাম থানা পুলিশ কিংবা লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে থানার কোনো পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়নি। যার কারণে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সহজেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে নোয়াখালীর দিকে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এ দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অনেক বাস নির্ধারিত গতিসীমা না মেনে দ্রুতগতিতে চলাচল করে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

তাদের দাবি, দুর্ঘটনার কারণ সঠিকভাবে তদন্ত করা, বাসটির ফিটনেস ও চালকের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো পরিবহন যেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে না পারে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, একটি গণপরিবহনে শতাধিক মানুষের নিরাপত্তা নির্ভর করে চালক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার ওপর। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার পর যদি যাত্রীদের বিপদের মধ্যে রেখে পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা চালকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, তাহলে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

তারা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়মিত গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এবং দুর্ঘটনার পর পরিবহন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Leave a Reply