কুমিল্লাজুড়ে বিশেষ অভিযানে কয়েক ঘণ্টায় ৬ শতাধিক কিশোর-তরুণ আটক

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলাজুড়ে কিশোর অপরাধ ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে গত তিন ঘণ্টায় প্রায় ছয় শতাধিক কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযানের সময় অনেকের কাছে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। রাতে বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধভাবে অবস্থান, আড্ডা ও সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে তাদের আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ পড়াশোনা বা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হয়েছিল কি না, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রত্যেকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আটক কিশোরদের ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে তদবিরের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পুলিশের অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি নির্দোষ হলে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে অপরাধে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সচেতন মহলের ভাষ্য, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার ও অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং রাতে কেন বাইরে থাকছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে পড়াশোনার বয়সে কিশোরদের গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তায় বা বিভিন্ন আড্ডাস্থলে অবস্থান করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। সন্তানকে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শাসন, পারিবারিক নজরদারি ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতনরা।

তারা বলছেন, কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে তার আগেই তাদের গতিপথ সম্পর্কে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Leave a Reply