

স্টাফ রিপোর্টার:
সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিন রাত প্রায় ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে পলাতক অবস্থায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ।
তিনি জানান, হামলার ঘটনার পর আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাত প্রায় ৩টার দিকে বিজয়পুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিকে সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করায় জেলা পুলিশ সুপার ও ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। অপরাধীরা আইনের আওতায় এলে অপরাধ কমে আসবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে বুধবার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন—যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ।
সাংবাদিক তানভীর দীপু জানান, বুধবার দুপুরে তারা সংবাদ সংগ্রহের জন্য লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পদুয়ার বাজার মোড়ে যানজট দেখে উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন তারা। এ সময় স্থানীয়দের তৈরি লোহার বেরিকেডে কয়েকটি গাড়ি আটকে গেলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, যানজটের কারণ জানতে সামনে গিয়ে লোহার বেরিকেডটি ওপরে তুলে একে একে গাড়িগুলোকে বের হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় স্থানীয় শাওন নামে এক যুবক এসে যানজট নিরসন এবং মানুষকে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওই যুবক তাকে ধাক্কা দেন। পরে সহকর্মী আবদুল্লাহ আল মারুফ এগিয়ে এসে তাকে সরিয়ে নিয়ে যান।
তানভীর দীপুর অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর ওই যুবক রড হাতে তাদের দিকে তেড়ে আসেন। স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিলেও পরবর্তীতে তিনি পেছন থেকে এসে তাদের ওপর হামলা করেন। এতে একজন সাংবাদিক আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তানভীর দীপুর ওপরও হামলা করা হয় বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
