সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভার গুরুত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তারা প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা না করা হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘ভাইভা না মেধা—মেধা মেধা’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ—বন্ধ কর, করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে বৈষম্য ও দলীয়করণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও ভাইভায় বেশি নম্বরের কারণে প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সদস্য সচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কোটা বা রাজনৈতিক প্রভাব নয়, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক নিয়োগব্যবস্থা মেনে নেবে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।

কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করা প্রার্থীরাও চূড়ান্ত নিয়োগে পিছিয়ে পড়তে পারেন। তাই ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া। সেখানে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পর ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই যেকোনো পরিবর্তনের আগে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মতামত বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা বজায় রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০, ১৩-১৬তম গ্রেডে ১০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ এবং ১৭-২০তম গ্রেডে ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ নম্বর করার কথা রয়েছে। এ প্রস্তাব নিয়েই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply