লাকসামে বিষাক্ত রাসায়নিক কেমিক্যাল দিয়ে কলা পাকানো দ্বায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দৌলতগঞ্জ বাজারে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে কলা পাকানোর অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস সুলতানা। এ সময় বাজারের কয়েকটি ফল ও কলার আড়তে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে কাঁচা কলা দ্রুত পাকানোর জন্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভোক্তাসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি এবং প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকসামে দীর্ঘদিন ধরে কলা পাকানোর জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছিলেন ক্রেতা ও সচেতন মহল। তবে যথাযথ প্রমাণের অভাবে এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সরাসরি রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, লাকসাম উপজেলা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্যরা বিভিন্ন সময় কলা ব্যবসায়ীদের এ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

ক্যাব সদস্য রবিউল ইসলাম সবুজ জানান, গত মাসে তিনি এক কলা ব্যবসায়ীকে কলা পাকানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করতে দেখে তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার উচ্চবাক্য বিনিময়ও হয়। তিনি বলেন, রাসায়নিক প্রয়োগ করে ফল পাকানো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, অধিক মুনাফার আশায় ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি। কারণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, ব্যবসায়ীদেরও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিয়মিত বাজার তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply