লাকসামে ভিশন শোরুমে অসাবধানতা টিভির এলসিডি ভাঙায় ক্রেতার কাছ থেকে জরিমানা আদায়।

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার লাকসামে ভিশন শোরুমে ওয়াশিং মেশিন কিনতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষতিপূরণ আদায় করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুর্ঘটনায় ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত একটি বড় এলইডি টিভির এলসিডি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শোরুম কর্তৃপক্ষ ও ক্রেতা পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধের মধ্য দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট রাতে নোয়াখালী থেকে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসা এক ব্যক্তি তার স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে লাকসাম ভিশন শোরুমে একটি ওয়াশিং মেশিন কিনতে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন মডেলের ওয়াশিং মেশিন দেখছিলেন। এ সময় ওয়াশিং মেশিন দেখতে গিয়ে হঠাৎ অসাবধানতাবশত পা আটকে গেলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তার হাত ডিসপ্লেতে রাখা একটি বড় এলইডি টিভিতে আঘাত করলে টিভিটির এলসিডি ভেঙে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটার পরপরই শোরুম কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শোরুমের ম্যানেজার লাকসাম থানায় যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল এবং কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শোরুম কর্তৃপক্ষ প্রথমে টিভিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করে প্রথমে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় আলোচনার পর উভয় পক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে সম্মত হয়। এরপর ওই অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ঘটনার সমাপ্তি ঘটে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ফুটেজ দেখে অনেকেই মন্তব্য করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে এবং এতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ক্ষতি করার লক্ষণ দেখা যায়নি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক শ্রেণির মানুষের মতে, দুর্ঘটনাজনিত এমন ঘটনায় একটি বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আরও মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করাও অযৌক্তিক নয় এবং বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই ইতিবাচক দিক।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শোরুমে ডিসপ্লে পণ্যের অবস্থান, পর্যাপ্ত চলাচলের জায়গা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ক্রেতাদের সুবিধার বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Leave a Reply