সারাদেশের ন্যায় লাকসামেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ১৯৩ কেন্দ্রে শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে ভিটামিন এ” ক্যাপসুল। ।

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

সারাদেশের মতো কুমিল্লার লাকসাম উপজেলাতেও শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে উপজেলার মোট ১৯৩টি টিকাদান কেন্দ্রে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা শিশুদের বয়স অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের (১ লাখ IU) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের (২ লাখ IU) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

সকাল থেকেই লাকসাম পৌরসভার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা। এ সময় তিনি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেবার সার্বিক মান ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন, নির্ধারিত বয়সের কোনো শিশুই যেন এ কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে।

ইউএনও নার্গিস সুলতানা বলেন, “শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় মোট ১৯৩টি টিকাদান কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত বয়সের কোনো শিশুই যেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রাতকানা ও ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহায়তা করে, হাম ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণের জটিলতা কমায় এবং শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নির্ধারিত বয়সের সব শিশুর অভিভাবকদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পেইন সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

Leave a Reply