লাকসামে রাত ৮টার পরও খোলা থাকছে দোকানপাট, প্রশাসনের অভিযানেও পুরোপুরি বন্ধ করছে না দোকানপাট

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিংবা জরিমানা-কিছুতেই মানছে না সরকারি নিয়ম

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার পর শপিংমল ও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও তা পুরোপুরি মানছেন না কিছু ব্যবসায়ী। নির্ধারিত সময়ের পরও বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রেখে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও ফার্মেসিসহ জরুরি সেবার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য দোকানপাট ও শপিংমল রাত ৮টার পর বন্ধ রাখার কথা। তবে লাকসাম পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে কিছু ব্যবসায়ী নির্ধারিত সময়ের পরও দোকান খোলা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ৮টার পরও বিভিন্ন মার্কেট ও সড়কের পাশের দোকানে আলো জ্বালিয়ে বেচাকেনা করতে দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলে অনেক দোকানি দোকানের শাটার নামিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। আবার অভিযান শেষ হওয়ার পর কিছু ব্যবসায়ী পুনরায় দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে লাকসাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় সরকারি নিয়ম অমান্য করে দোকান খোলা রাখার অভিযোগে কোথাও জরিমানা করা হচ্ছে, আবার কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

তবে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কিছু ব্যবসায়ী নিয়ম মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও রাত ৮ টার পর দোকানপাট খোলা রাখার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলে সরকারি নির্দেশনা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা কঠিন। নিয়মিত নজরদারি এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর অভিযান পরিচালনা করা হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর অনেক ব্যবসায়ীর কাছে আগেই পৌঁছে যায়। ফলে অভিযানকারী দল কোনো এলাকায় পৌঁছানোর আগেই অনেক দোকানি দোকান বন্ধ করে ফেলেন। এতে অনেক সময় নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযানের বিষয়টি গোপন রেখে হঠাৎ অভিযান পরিচালনা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হলে প্রকৃত চিত্র আরও ভালোভাবে উঠে আসবে। একই সঙ্গে যারা বারবার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করছেন, তাদের তালিকা করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দোকানিরা নির্ধারিত সময়ে দোকান বন্ধ না করলে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বা জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, নিয়মিত নজরদারি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।

তারা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী নেতাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি নির্দেশনার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের একার নয়।স্থানীয় রাজনীতিবিদ, দোকান মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবাই এগিয়ে এলে রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর করা সহজ হবে।

তাদের প্রত্যাশা, ব্যবসায়ীরা নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবেন এবং প্রশাসনের অভিযানকে বাধাগ্রস্ত না করে সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে প্রশাসনও নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলেই লাকসামে রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply